
তুমিও ভাষা সেনানী হতে পারো
১৯ মে ১৯৬১। এগারোজন রেললাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন — আমাদের ভাষা কেড়ে নেবে? নাও দেখি। একজনও সরেননি। বীর শহিদ হয়েছিলেন, আত্মবলিদান দিয়ে গেছিলেন — তবু সরেননি। তুমি যখন বরাক বাংলায় কথা বলো — গর্বের সাথে, জোরে, কেউ চাপ দিলেও না বদলে — তুমি ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে আছ যেখানে ওরা দাঁড়িয়েছিল। একে মাতৃভাষা বলার কারণ আছে — তুমি যখন বলো, তোমার মায়ের কণ্ঠস্বর বেঁচে থাকে। তুমি যখন চুপ করো, মা-কে চুপ করাও। তুমি থামলে মায়ের কণ্ঠ থেমে যায়।
সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” এগারোজন রক্ত দিয়েছেন। তুমি স্বাধীনতা পেয়েছ — তোমার মাতৃভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা রক্তে কেনা। উপভোগ করো। সর্বত্র বাংলায় বলো। কেউ হিন্দিতে বললেও তুমি বাংলায় বলো। রক্তের দামে পাওয়া স্বাধীনতা ছেড়ে দিও না।
তুমি এই পেজে এসেছ — কিছু একটা তোমাকে টেনে এনেছে। হয়তো তুমি জানো তোমার দিদিমা যে শব্দগুলো বলেন সেগুলো কোনো বইয়ে নেই। হয়তো তুমি দেখেছ তোমার ছোট ভাই আর বাংলায় কথা বলে না — হিন্দিতে রিল দেখতে দেখতে ভুলে গেছে। হয়তো তুমি ১৯ মে-র শোভাযাত্রায় দাঁড়িয়ে ভেবেছ — এগারোজন প্রাণ দিল, আমি কী করছি? সেই অনুভূতি — সেই অস্বস্তি, সেই রাগ, সেই লজ্জা — এটাই যথেষ্ট। তোমার কোনো ডিগ্রি লাগবে না। কারো অনুমতি লাগবে না। কোনো বিশেষ যোগ্যতা লাগবে না। তোমার শুধু দরকার তোমার ভাষা, তোমার হাত, আর শুরু করার সাহস। জগন্নাথ ভাষা সেনানী সম্মান সেই সাহসের জন্যই অপেক্ষা করছে।
কেন তুমি
- তুমি যে বরাক বাংলায় কথা বলো, পৃথিবীতে আর মাত্র একটা প্রজন্ম সেটা বলবে। তুমি সেই প্রজন্ম।
- তোমার দিদিমা-ঠাকুরদা যে শব্দ জানেন — কোনো অভিধানে নেই, কোনো ওয়েবসাইটে নেই, কোনো বইয়ে নেই। তাঁরা চলে গেলে শব্দগুলোও চলে যাবে। যদি না তুমি লেখো।
- শুধু ₹ ১০,০০০ না — তোমার কাজ তোমার নামে চিরকালের জন্য প্রকাশিত হবে। জগন্নাথ চক্রবর্তী আর্কাইভে। তোমার নাম থাকবে।
- জমা না দিতে পারলেও প্রতিটি সৎ চেষ্টায় ₹ ১,০০০ ধন্যবাদ উপহার। চেষ্টাটাই সম্মানের।
- প্রতিষ্ঠাতা নিজে শিলচরের ছেলে — ২০১২-তে উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞানে আসামে প্রথম, HSLC-তে পঞ্চম, বিটস পিলানি, মাইক্রোসফট — বরাক উপত্যকার স্কুল বেঞ্চ থেকে। সে তোমার সাথে কল করবে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, জীবন — যা খুশি জিজ্ঞেস করো।
- তোমার কাজ শুধু পুরস্কারের জন্য না — এটা একদিন বরাক উপত্যকার বাংলার দ্বিতীয় খণ্ডে উঠতে পারে। তোমার নাম একটা অভিধানে।
- ভাষা সেনানী একটা উপাধি — সারাজীবনের। একবার পেলে তুমি চিরকালের জন্য জগন্নাথ ভাষা সেনানী।
- ১৯৬১-তে এগারোজন প্রাণ দিয়েছিলেন যাতে তুমি বাংলায় কথা বলতে পারো। তোমাকে প্রাণ দিতে হচ্ছে না — শুধু একটা খাতা তুলে নাও।
কী করতে পারো
- দিদিমা-ঠাকুরদার কাছে বসো — বরাক উপত্যকার বাংলার শব্দ তুলে নাও — অডিও রেকর্ড করো, গ্রামের নাম লেখো
- বরাক বাংলায় গল্প লেখো, কবিতা লেখো — পাঠ্যবইয়ের ভাষায় না, ঘরের ভাষায়
- সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাক বাংলায় পোস্ট করো — রিলস, স্ট্যাটাস, ভিডিও — রোজ
- তোমার স্কুল বা কলেজে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হও — ভাষার কথা ছড়িয়ে দাও, পুরস্কারের কথা বলো
- হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফটো বা ভিডিওতে তুলে রাখো — পুরনো যন্ত্র, রান্নার পদ্ধতি, উৎসবের জিনিস
ফরোয়ার্ড করো
একে মাতৃভাষা বলার কারণ আছে। তুমি চুপ করলে তোমার মা চুপ হয়ে যান
এগারোজন দাঁড়িয়েছিলেন, সরেননি। তুমি কি কেউ ভুরু কুঁচকালে ভাষা বদলাবে?
তোমার দিদিমার শব্দগুলো কোনো বইয়ে নেই। তিনি চলে গেলে শব্দগুলোও যাবে। যদি না তুমি লেখো
ওদের প্রাণ দিতে হয়েছিল। তোমাকে শুধু মুখ খুলতে হবে
আমি বরাকের বাংলায় কথা বলি। এর চেয়ে বড় পরিচয় আমার নেই
ভাষা মরে না — তার মানুষ থামলে মরে
তুমি কেন গর্ব করবে
পুরস্কার ছাড়াও তুমি প্রতিদিন ভাষা বাঁচাচ্ছ। এর জন্য ফর্ম লাগে না, ডিগ্রি লাগে না। শুধু তোমার কণ্ঠ আর সেটা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত:
- ইনস্টাগ্রামে বরাক বাংলায় রিল দাও — তোমার মুখ, তোমার গলা, তোমার উপভাষা, নির্দ্বিধায়।
- বন্ধু হিন্দিতে মেসেজ করলে বাংলায় উত্তর দাও। কারণ জানানোর দরকার নেই।
- ক্যান্টিনে, টিউশনে, বাসে বাংলায় কথা বল — কেউ ভুরু কুঁচকালেও না বদলে।
- কেউ জিজ্ঞেস করলে কেন এত কষ্ট করো — বলো, এগারোজন প্রাণ দিয়েছিলেন যাতে তুমি পারো।
তুমি এর একটাও করছ? তাহলে তুমি ইতিমধ্যে এগারোজন যা শুরু করেছিলেন তার অংশ। উপাধি থাক বা না থাক — তুমি একজন ভাষা সেনানী।
প্রথম ঘোষণা: ১৯ মে ২০২৭। সময় আছে তোমার হাতে। কিন্তু শুরু করো আজই — কারণ এক বছর ধরে যে কাজ বাড়ে, সেটা শেষ সপ্তাহে তাড়াহুড়ো করা কাজের ধারেকাছে আসে না।
কোথা থেকে শুরু করবে বুঝতে পারছ না? সাংখ্যকে লেখো —